পরেশ দেবনাথ, যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।
কেশবপুর পৌর শহরের মাইকেল গেট সংলগ্ন এলাকায় যশোর টু চুকনগর মহাসড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী (৭৫) নিহত হয়েছেন ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কেশবপুর উপজেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি উপজেলার পাত্রপাড়া গ্রামের মৃত মকছেদ আলী মোড়লের ছেলে।
রোববার (২৬ জুলাই-২৬) প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে মোহাম্মদ আলী মোটরসাইকেলে করে শহরের মাইকেল মোড়ে পৌঁছালে সাতক্ষীরা থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। ভোলা-জ-১১-০০০৮ নম্বরের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় কেশবপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক বাসটি জব্দ করে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক বাীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন কেশবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক গুণাবলীর জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে কেশবপুরের সর্বস্তরের মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন মহলে শোকের আবহ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কেশবপুর একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, সৎ নেতৃত্ব এবং অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারালো। জানা যায়, তিনি তাঁর বিয়ের ১৫ দিন পর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা খাতুনের উপস্থিতিতে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।
মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে শোকের মাতম নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী, পাঁচ ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান কেশবপুরবাসী এবং জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র কেশবপুর উপজেলার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মহান আল্লাহ তাআলা যেন মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন। উল্লেখ্য, বীর মুক্তি সামসুর রহমান জানান, সন্ধ্যা ছয়টায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেশকাতুল ইসলাম-এর উপস্থিতিতে গার্ড অফ অনার্স এবং এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
