পরেশ দেবনাথ, যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা থেকে পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার বাটবিলা পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কটি এখন হয়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র। প্রতিদিন বিকেল হলেই দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে সড়কটি।
সড়কের এক পাশে বিশাল বড় বিল, অন্য পাশে পদ্মবিল। এর সঙ্গে সারি সারি খেজুরগাছ, বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও নির্মল প্রকৃতির মেলবন্ধন তৈরি করেছে মনোরম এক পরিবেশ। শহুরে কোলাহল থেকে দূরে এমন নিরিবিলি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ এখানে ছুটে আসছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে রায়হান নামে এক যুবক সড়কের পাশে একটি ছোট দোকান দেন। ধীরে ধীরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় রিয়াদ নামে আরেক যুবকও সেখানে দোকান দেন। বর্তমানে বিকেল হলেই দোকান দুটির আশপাশে ভ্রমণপ্রেমীদের ভিড় জমে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা বিপ্লব বলেন, “জায়গাটি সত্যিই অনেক সুন্দর ও নিরিবিলি। মন খারাপ থাকলেও এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটালে ভালো লাগবে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য এটি চমৎকার একটি স্থান।”
আরেক দর্শনার্থী ওহিদুর রহমান বলেন, “গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়কের দুই পাশে বড় দুটি বিল, আর মাঝখান দিয়ে চলে গেছে পাকা সড়ক। পুরো দৃশ্যটি দৃষ্টিনন্দন। বিকেলে এখানে এলে প্রকৃতির সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে উপভোগ করা যায়।”
স্থানীয় সাংবাদিক তুহিন হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকা এই সড়কটি পাকাকরণের পর কেশবপুর, মনিরামপুর ও অভয়নগরের মানুষের যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষের অবসর কাটানোর নতুন একটি স্থান তৈরি করেছে। পরিকল্পিতভাবে এর সৌন্দর্যবর্ধন করা গেলে এটি আরও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “সম্প্রতি গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়ক এলাকায় ঘুরতে গিয়ে জায়গাটিকে সত্যিই সুন্দর ও নিরিবিলি মনে হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন গাছ রয়েছে। সড়কটির সৌন্দর্য আরও বাড়াতে সেখানে কিছু গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ, বসার ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে গড়ভাঙ্গা-বাটবিলা সড়কটি কেশবপুর ও আশপাশের মানুষের জন্য একটি স্থায়ী ও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
