কেশবপুরে দলিত ও প্রান্তিক নারীদের সাথে ‘ওয়েভ ইভেন্ট’ অনুষ্ঠিত।

স্টাফ রিপোর্টার
0


পরেশ দেবনাথ, যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।


যশোরের কেশবপুরে দলিত ও প্রান্তিক নারীদের অধিকার নিশ্চিতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ‘ওয়েভ ইভেন্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এফসিডিও (FCDO)-এর অর্থায়নে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস (MIPS) প্রকল্পের সহযোগিতায় কেশবপুর নারী শান্তি সহায়ক প্লাটফর্ম (ওয়েভ)-এর আয়োজনে দলিত ও প্রান্তিক নারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে শান্তিশৃঙ্খলা ভাবে এক বিশেষ ‘ওয়েভ ইভেন্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল-২৬) বিকেলে কেশবপুর পৌরসভার বালিয়াডাঙ্গা দাস পাড়াস্থ উজ্জ্বল দাসের বাড়িতে আয়োজিত এই ইভেন্টের মূল স্লোগান ছিল— “বৈষম্যহীন সমাজ গড়ি, দলিত ও প্রান্তিক নারীর অধিকার নিশ্চিত করি” এবং “মর্যাদা ও অধিকারের পথে, আমরা সবাই একসাথে”।

সদর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং ওয়েভের সমন্বয়কারী নাজমা সুলতানা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর মোতাহার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৌর আমির প্রভাষক জাকির হোসেন।

বক্তারা বলেন, দলিত ও প্রান্তিক নারীরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা কেবল মানবিক দায়িত্বই নয় বরং টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। ধর্মীয় ও জাতিগত নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে আরও অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেন, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পিএফজি সদস্য উজ্জ্বল দাস এবং দলিত নেতা সুজন দাশ। তারা দলিত সম্প্রদায়ের নারীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক পরেশ চন্দ্র দেবনাথ-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, অনিল দাস, নয়ন দাস, খোকন দাস, জবা দাস, সুজিত দাস, রীনা দাস-সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও দলিত সম্প্রদায়ের নারী সদস্যবৃন্দ।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, পিএফজি'র সমন্বয়কারী মোঃ মনসুর আলী। ইভেন্ট শেষে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ কেশবপুর উপজেলায় দলিত ও প্রান্তিক নারীদের জন্য একটি বৈষম্যহীন এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি দলিত ও প্রান্তিক নারীদের মধ্যে একটি প্রাণচাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছিল।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)