কেশবপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৫৫ লাখ টাকা ও ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ।

স্টাফ রিপোর্টার
0

 


পরেশ দেবনাথ, যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।


যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কেশবপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। টিআর, কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় টিআর (বিশেষ), কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পে মোট ৫৫ লাখ টাকা এবং ৪০ মেট্রিক টন চাল-গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক অবকাঠামো এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রকল্প তালিকা অনুযায়ী, টিআর কর্মসূচিতে ৩০ লাখ টাকা, কাবিটা কর্মসূচিতে ২৫ লাখ টাকা এবং কাবিখা কর্মসূচিতে ২০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দের বিপরীতে মোট ৩৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

টিআর কর্মসূচির আওতায় ১ নম্বর ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের শ্রীশ্রীয়ামপুর ও শেখপাড়া এলাকায় মন্দির ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের সাগরদাঁড়ি ও মালোপাড়া এলাকায় মন্দির সংস্কার এবং রাস্তা উন্নয়ন, ৩ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়নের পাগড়াপাড়া, প্রতাপপুর ও মাজিদপুর এলাকায় মসজিদ সংস্কার ও সড়ক উন্নয়ন, ৫ নম্বর মঙ্গলকোট ইউনিয়নে কালী মন্দির সংস্কার, ৬ নম্বর কেশবপুর ইউনিয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ উন্নয়ন, ৮ নম্বর সুফলাকাটি ইউনিয়নে মন্দির, বিদ্যালয় ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ৯ নম্বর গৌরীঘোনা ইউনিয়নে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট ও মসজিদ সংস্কারের কাজ করা হবে।

এছাড়া পৌরসভার ১, ৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কালী মন্দির, মসজিদ, কেশবপুর পৌর কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজ, কেশবপুর প্রেসক্লাব এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কাবিটা কর্মসূচির আওতায় ৭ নম্বর পাঁজিয়া ইউনিয়নের সাগরভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ, ৮ নম্বর সুফলাকাটি ইউনিয়নের আড়ুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ, ৪ নম্বর বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের বাউশলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠ, ৫ নম্বর মঙ্গলকোট ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং ১১ নম্বর হাসানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের বিপরীতে ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের মির্জানগর এলাকায় মসজিদ থেকে মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত সড়ক, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মির্জাপুর থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত সড়ক এবং মজিদপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর উত্তরপাড়া এলাকায় গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়ন করা হবে।

অন্যদিকে ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দের বিপরীতে ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকায় আবুল হেরা মসজিদ সংলগ্ন সড়ক এবং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মালোপাড়া থেকে শিব মন্দির পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী বলেন, বলেন, উন্নয়নের সুফল যাতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রকল্প নির্বাচন করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর।

অধ্যাপক মোক্তার আলী আরও বলেন, কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় এখনো কাজ শুরু হয়নি, সেসব স্থানেও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে কেশবপুরের প্রতিটি অঞ্চলে সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রকল্প তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরাদ্দের বড় অংশ ব্যয় করা হচ্ছে ত্রিমোহিনী, সাগরদাঁড়ি, মজিদপুর, সুফলাকাটি, গৌরীঘোনা, হাসানপুর, পাঁজিয়া, বিদ্যানন্দকাটি, মঙ্গলকোট ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ উন্নয়ন এবং গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত, শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)