পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি , যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।
কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্তিয়া, পাঁচপোতা, আলতাপোল, পাঁচারইসহ বিভিন্ন গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের গাছতলা পূজা ধর্মীয় গাছতলায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী-২৬) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে অনেক রাত পর্যন্ত অনু্ষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী বসুন্তিয়া গাছতলা পূজার্চনায় পূরোহীতের দ্বায়িত্বে নিয়োজিত মিহির চক্রবর্তী বলেন, এই পূজায় হরি, কালী, শীতলা, মা-মনষা, ও মা-মঙ্গলা এই পাঁচ দেবির পূজা করা হয়। সার্বিক মঙ্গল কামনায় এই পূজা করা হয়।
কোষাধ্যক্ষ উত্তম রায় বলেন, প্রতিবারের মত এই পূজায় ভক্তদের মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ায় মানসিক হিসাবে ৩ জন-সাতক্ষীরা ধুলিহরের রবীন সরদার, শোলগাতিয়ার অরিত্র পাল ও বারবাজারের ইধা সিংহ ওজন করে মিষ্টান্ন-ভোগ নিবেদন করেন।
সহ-সভাপতি অশোক পাল জানান, মনের বাসনা পূর্ণ হওয়ায় ২ জন-কেশবপুরের মনিমালা রায় ও বসুন্তিয়া গ্রামের অঞ্জলী পাল বুক চিরে রক্ত দান করেছেন।
পূজা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার প্রদীপ দেবনাথ ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রায় জানান, বিভিন্ন গ্রামের শত শত নারী-পুরুষসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোক এখানে এই পূজা দেখতে আসেন। এই গাছতলা পূজার ঐতিহ্যের কারণে আগের চেয়ে ভক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ভক্ত এখানে মানদ করে মুক্তি পেয়েছেন।
গ্রামের বয়স্ক ব্যক্তি সুভাষ রায় (৮৫) জানান, 'আমার জন্ম থেকে দেখে আসছি এখানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই পূজা হয়ে আসছে। হিন্দু-মুসলমান অনেক লোক মানসা করে সুফল পেয়েছেন।
বসুন্তিয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম জানান, 'আমি প্রতি বছর এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এসে থাকি এবং আপনাদের আচার-ব্যবহারে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হই।
এবার এই পূজানুষ্ঠানে নাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন, এ আই টেকনিশিয়ান সুমন রায়, অরূন হালদার, গৌতম হালদার, উত্তম পাল, মলয় কুণ্ডুসহ সঙ্গীরা। অনুষ্ঠান শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
