পরেশ দেবনাথ, যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার কর্মকার (৫৮) আর নেই, না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন-এর শোকবার্তা অনুযায়ী জানা যায়, "১১ মার্চ ২০২৬ খ্রি. দুপুর ০১:০০ (আনুমানিক) ঘটিকার সময় ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোকজনিত কারণে পরলোক গমণ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, জনাব সন্তোষ কুমার কর্মকার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা একজন মেধাবী, দক্ষ, সৎ, নিষ্ঠাবান, অভিজ্ঞ, পরিশ্রমী, সদালাপী ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা হিসেবে সকলের নিকট সমাদৃত ছিলেন। তার মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসন, কেশবপুর, যশোর একজন ভালো ও দক্ষ কর্মকর্তাকে হারালো। চাকুরীকালীন তাঁর অবদান আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।"
সুমিষ্টভাষী সন্তোষ কুমার কর্মকার কেশবপুর উপজেলা বালিয়াডাঙ্গা (শ্রীগঞ্জ কালিতলা) গ্রামের অনিল কর্মকার-এর বড় ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও বহু গনগ্রাহী ব্যক্তি রেখে গেছেন।
বুধবার (১১ মার্চ-২৬) রাত ১০ টায় কেশবপুর কুটিবাড়ী মহাশ্মশানে তাঁর শেষ কৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সদালাপী সন্তোষ কুমার কর্মকারের এই অকাল প্রয়াণে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কেশবপুর উপজেলাধীন ৮ নং পাঁজিয়া ইউনিয়নের পাঁজিয়া গ্রামে ১৯৬৮ ইং সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। পরে উপজেলা বালিয়াডাঙ্গা (শ্রীগঞ্জ কালিতলা) গ্রামে দীর্ঘদিন সম্মানের সাথে বসবাস করে আসছেন। ব্যক্তিজীবনে দুই কন্যা সন্তানের জনক। বড় মেয়ে বিবাহিত ছোট মেয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজে অধ্যায়নরত। ৪ ভাই ও ২ বোন মোট ৬ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
চাকরী জীবনে প্রথমে তিনি কেশবপুর নিজ উপজেলায় এবং ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছর মণিরামপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পর পূণরায় কেশবপুরে বদলি হয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ যোগদান করেন।
সন্তোষ কুমার কর্মকার-এর অকাল প্রয়াণে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে তার বাড়ি এবং কেশবপুর কুটিবাড়ী মহাশ্মশানে তার শেষ কৃত্যানুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন, মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন, কেশবপুর পৌর বিএনপি'র সভাপতি সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল সামাদ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দিন আলা, সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান, বিএনপি নেতা শাহাবুদ্দিন বাবলু, শিক্ষক রওশন আলী-সহ ব্যবসায়ী নেতারা ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
