পরেশ দেবনাথ, যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।
যশোরের কেশবপুরে জমি জবরদখলের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নূর ইসলাম গাজী নামে এক ব্যক্তি। শণিবার (৭ মার্চ-২৬) দুপুর ১২ টায় কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবে পৌরসভার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম গাজী এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নূর ইসলাম গাজী-এর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, তার পুত্রবধু আসমা খাতুন লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি পেশায় একজন কৃষক। পাশাপাশি বাজারে সাইকেলে করে কটকটি বিক্রি করে পরিবারের সাত সদস্যের জীবিকা নির্বাহ করেন। ২০০৬ সালে ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার কালাবাসা এলাকায় একই গ্রামের সামাদের কাছ থেকে দেড় শতক জমি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে তা নিজের নামে নামজারি করেন। জমিটির খতিয়ান নম্বর ১৪৮৭ ও দাগ নম্বর ২৮৩৯। ওই জমির একটি অংশে তিনি একটি চায়ের দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১২ সালে একই গ্রামের মোকাম গাজী ওই দাগের জমি থেকে প্রথমে দুই শতক এবং পরে আরও চার শতকসহ মোট ছয় শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকেই মোকাম গাজী তার জমির ভেতর দিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা শুরু করেন।
নূর ইসলাম গাজীর দাবি, ২০২৫ সালের শুরুতে মোকাম গাজী জোরপূর্বক তার জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালান। এতে তিনি বাধা দিলে মোকাম গাজীর হুমকির মুখে প্রাণভয়ে সরে যেতে বাধ্য হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মোকাম গাজী প্রভাব খাটিয়ে তার জমির একটি অংশ জবরদখল করে সেখানে পাকা প্রাচীর নির্মাণ করে ভোগদখল করছেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ১৪৪ ধারা জারি করান। পাশাপাশি বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার জন্য একাধিকবার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মশিয়ার রহমানের কাছে যান, তবে তা সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন। পরে তিনি কেশবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদের কাছে মীমাংসার অনুরোধ করলে তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
নূর ইসলাম গাজী আরও বলেন, পরে তিনি আবারও আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করান। কিন্তু তার অভিযোগ, ওই আদেশ অমান্য করে মোকাম গাজী নির্মাণকাজ শেষ করেন। পরবর্তীতে তিনি পৌর প্রশাসকের কাছে জমির প্রকৃত পরিমাপের আবেদন করেন। গত ১ মার্চ পৌরসভার সার্ভেয়ার জমি মাপজোক করলে দেখা যায়, মোকাম গাজী তার জমির ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি অংশ দখল করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ মার্চ মোকাম গাজী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুজ্জামান চৌধুরীর নাম জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে তাদের সম্মানহানি করার চেষ্টা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নূর ইসলাম গাজী ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জমি দখলের প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এমতাবস্থায় তাদের জমি জবরদখল ও হয়রানি থেকে রক্ষার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।পাশাপাশি ঘটনাগুলো বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষ করেন।
