সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভবদহে ৬টি নদী খনন কাজের শুভ উদ্বোধন।

স্টাফ রিপোর্টার
0

 


পরেশ দেবনাথ, কেশবপুর, যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।


যশোরের ভবদহের ২১ ভেল্ট এলাকা থেকে এলাকার জলবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি নদীর ৮১'৫ কিলোমিটার পূনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ভবদহ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত নদী খনন সম্পন্ন হলে ভবদহ এলাকার জনগন জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্ত হবে বলে আশা করছেন।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর-২৫) দুপুরে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কতৃক এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন, যশোর জেলা প্রশাসক জনাব আজাহারুল ইসলাম। জনাব লে. কর্ণেল মামুন উর রশিদ, প্রকল্প পরিচালক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জনাব বি, এম, আব্দুল মোমিন, প্রকল্প পরিচালক, বাপাউবো। জনাব মেজর গাজী নাজমুল হাসান, প্রকল্প কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জনাব পলাশ কুমার ব্যানার্জী, নির্বাহী প্রকৌশলী, বাপাউবো, যশোর। রেকসোনা খাতুন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেশবপুর। জনাব নিশাত তামান্না, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মনিরামপুর। জনাব শেখ সালাউদ্দীন দিপু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অভয়নগর।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, ভবদহ পানি নিস্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, জামায়াত নেতা গাজী এনামুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুন উর রশিদ বলেন, যে কোনো চ্যালেঞ্জিং কাজের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়। ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনও অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। এই অঞ্চলটি তুলনামূলক নিচু এলাকা। কিন্তু এই অঞ্চলের ৬টি নদী খননের মাধ্যমে পানি অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের জন্য সমন্বিত প্রকল্পও গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব কিছু মাধ্যমে এই অঞ্চলের জনগণকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে চাই। তবে এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ৮১ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। টেকা হরিহর নদীর কাজ শুরু হলে ভবদহর দুর্ভোগ লাঘব হবে।

প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের স্থানীয় জলাবদ্ধতা অবসানের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় জনগণ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্টরা। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু হবার খবরে ৪৪ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবার সম্ভাবনা দেখছেন ভুক্তভোগিরা।

রাজনীতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তবর্তী সরকারের পানিসম্পদ উপদেষ্টা রিজওয়ান হাসান সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কর্মকর্তাদের নিয়ে দু দফা পরিদর্শন করেন ভবদহ অঞ্চল। এসে প্রতিশ্রুতি দেন স্থায়ী সমাধানের। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সংকটের এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও চার দশকের দুঃখ ঘোচাতে সর্বশেষ চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর যশোর ও খুলনার ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাপাউবো এবং সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের আওতায় যশোর ও খুলনা অঞ্চলের হরিহর নদী (৩৫ কিমি), হরি-তেলিগাতি নদী (২০ কিমি), আপারভদ্রা নদী (১৮.৫ কিমি), টেকা নদী (৭ কিমি) ও শ্রী নদী (১ কিমি)সহ মোট ৫টি নদীর ৮১.৫ কিমি পুনঃখনন করার অনুমোদন দেওয়া হয়। শুক্রবার থেকে ভবদহের ২১ ভেল্ট থেকে এই প্রকল্পের শুরু করবে সেনাবাহিনী।

যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। পলি পড়ে এই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদ নাব্যতা হারিয়েছে। এতে নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হয় না। দীর্ঘ চার দশক ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। অবর্ণনীয় দুঃখের মধ্যে চলে ওই অঞ্চলের মানুষের জীবন। যে কারণে ভবদহকে ‘যশোরের দুঃখ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। গেল বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে ভবদহের আড়াইশ’ গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়ে প্রায় চার লাখ মানুষ। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে সড়কের ওপর। বর্ষা মৌসুমে গেলেও এখনও প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে হাটু পানি। ডুবে আছে ঘের, ফসলি জমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। খনন কার্যের সময় নদী পাড়ের শত শত ভুক্তভোগী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)