কেশবপুরে একই গ্রামে তিন যুবকের অপমৃত্যু/উদ্বেগ ও বিষাদের ছায়া।

স্টাফ রিপোর্টার
0

 


পরেশ দেবনাথ, জেলা প্রতিনিধি , যশোর, দৈনিক সারা দুনিয়া।


কেশবপুর উপজেলার ৭ নং পাঁজিয়া ইউনিয়নের বেলকাটি গ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন যুবকের অপমৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে দুই জন সড়ক দুর্ঘটনায় ও এক জনকে মিথ্যা অপবাদে পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। ভিন্ন ভিন্ন এসব ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত (৩০ মার্চ-২৬) বেলকাটি গ্রামের মোতলেব গাজীর ছেলে হায়দার আলী (৩৫) সড়ক দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হন। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রী ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে তার পরিবার হতবাক হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল-২৬) সন্ধ্যায় একই গ্রামের রকিব মৌরির একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান রানু (২৫) মনিরামপুর থেকে ফেরার পথে যশোর-চুকনগর সড়কের লাউড়ী মোড় এলাকায় নবনির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। একই দিন দুপুরে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় বাজারে ইজিবাইক চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন একই গ্রামের শিক্ষক আনসার উদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন (৩৫)। জানা যায়, ফারুক হোসেন পূর্বে নৌবাহিনীতে চাকরি করতেন। পরে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ায় চাকরি হারিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি বিভিন্ন সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন।

একই গ্রামের তিনজন যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গ্রামবাসী এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেলকাটি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, “এক সপ্তাহে তিনটা লাশ, এটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। গ্রামের পরিবেশ পুরো বদলে গেছে, সবাই আতঙ্ক আর শোকে আছে।”

গ্রামের আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িতে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে। এমন ঘটনা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।”

স্থানীয় যুবক মফিজুর রহমান জানান, “সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি। আর গণপিটুনির মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার।”

এ বিষয়ে পাঁজিয়া ইউনিয়নের বেলকাটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বুলু বলেন, “ঘটনাগুলো খুবই দুঃখজনক। এক সপ্তাহে একই গ্রামের তিন যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশেষ করে ওই পারিবারের লোকজনের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।”গ্রামবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)